প্রতিবেদকঃ রতন হোসেন
রাজধানীর মহাখালী ওয়্যারলেস গেট থেকে টিভি গেট ও পানির ট্যাংকি পর্যন্ত ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় আধিপত্যকে কাজে লাগিয়ে ফুটপাতের দোকান নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ঢাকা-১৭ আসনের বনানী থানাধীন ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন ওরফে কালা নাসির এবং যুবলীগের সাবেক নেতা হিসেবে পরিচিত হাজী মো. গোলাম কিবরিয়া। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এসব ব্যক্তির প্রভাবকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, মহাখালী ওয়্যারলেস গেট থেকে টিভি গেট ও পানির ট্যাংকি পর্যন্ত ফুটপাতের বিভিন্ন দোকান নিয়ন্ত্রণ করে মাসে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। দোকানপ্রতি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নির্ধারিত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে দোকান ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
অন্যদিকে, হাজী মো. গোলাম কিবরিয়ার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি বিএনপির নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তবে তার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক পদ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকার আরেক ব্যক্তি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান ওরফে আকুকে ঘিরেও নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর মুক্ত হয়ে তিনি আবারও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের মতো কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনসাধারণের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তারা বলছেন, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় কোনো অপরাধের দায় থেকে কাউকে মুক্তি দিতে পারে না। তাই ফুটপাত দখলমুক্ত করা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিক বার মুঠোফোনে কল করা হলেও কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক: লিটন আফরোজ।
নিউজ ডিবিএন | আপনার আস্থার সংবাদমাধ্যম