
দক্ষিণ লেবাননের প্রাচীন উপকূলীয় শহর টায়ারে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইরানের সতর্কবার্তার একদিন পর এই হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, টায়ারের একটি আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। এর আগে সোমবার একই এলাকায় হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলাকালে মঙ্গলবার আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক সূত্র জানিয়েছে, টায়ার এলাকায় ‘হিজবুল্লাহর সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এর আগে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আবারও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালাবে। সম্প্রতি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দেয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।
তবে ইরান-সমর্থিত সংগঠন Hezbollah জানিয়েছে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনা অবস্থান অব্যাহত থাকলে তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানবে না।
মঙ্গলবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র Avichay Adraee সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে টায়ারের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের ভেতরে হামলা চালিয়েছে, ফলে আইডিএফ পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ লেবাননে নতুন এই হামলা ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। পাশাপাশি ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
সূত্র: সিএনএন
মন্তব্য করুন