
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার ঘোষগাতী গ্রামে টিকটকে পরিচয়ের সূত্র ধরে বিয়ে করা এক নারীর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা আত্মসাৎ করে স্বামী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন ওই নারী।
ভুক্তভোগী খাদিজা (পূর্বনাম চম্পা কুমারী) জানান, প্রায় এক বছর আগে কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকার সময় টিকটকের মাধ্যমে মোল্লাহাট উপজেলার ঘোষগাতী গ্রামের নজরুল বিশ্বাসের ছেলে ঈসা রুহুল্লার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে খাদিজা নাম ধারণ করেন এবং আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিট করে তারা বিয়ে করেন।
খাদিজার দাবি, বিয়ের পর প্রায় ছয় মাস ঢাকায় একসঙ্গে বসবাস করেন তারা। এ সময় ঈসা কৌশলে তার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিজের কাছে রেখে একপর্যায়ে পালিয়ে যান। এরপর দীর্ঘদিন তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরে স্বামীর গ্রামের ঠিকানা সংগ্রহ করে প্রায় এক মাস আগে তিনি শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই শাশুড়ি ও ননদের হাতে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে যান। বর্তমানে তিনি স্বামীর এক চাচার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা তার পাশে দাঁড়ান এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আদম শেখ বলেন, “একটি মেয়ে তার পরিবার ও ধর্ম ত্যাগ করে এখানে এসেছে। তার সরলতার সুযোগ নিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। আমরা এলাকাবাসী বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক বলেন, “ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারা আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে। তাই প্রয়োজনীয় আইনি প্রতিকার পেতে আদালতে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত স্বামী ঈসা রুহুল্লা বা তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন