
লিটন আফরোজ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো সংবিধান বাতিল বা ছুড়ে ফেলার কথা বলেনি। তবে সংবিধানের যেসব বিধান অতীতে ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে বলে তারা মনে করে, সেসবের সংস্কার চায় দলটি।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সংবিধানবিরোধী নই। কিন্তু সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর ফ্যাসিবাদ ফিরতে দেবো না। আমরা ফ্যাসিবাদের দাফন করতে চাই।”
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, গত ১৭ বছরে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, “এ সংসদের সবাই কোনো না কোনোভাবে মজলুম। আগামীর বাংলাদেশ এমন হতে হবে, যেখানে আইন ও সংবিধানের অপব্যবহার করে কেউ স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে পারবে না।”
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলন—বাংলাদেশের ইতিহাসের এসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিও সমর্থন ব্যক্ত করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই। নতুন বাংলাদেশের অর্থ দেশের ভৌগোলিক সীমারেখা বা জাতীয় পতাকা পরিবর্তন নয়। বরং এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কোনো আইন বা সাংবিধানিক সুযোগ ব্যবহার করে ফ্যাসিবাদের জন্ম দেওয়া সম্ভব হবে না।”
মব কালচারের দায় জামায়াতের ওপর চাপানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হওয়া একটি দলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সংসদের জন্য লজ্জাজনক।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে সাধারণ নাগরিক থেকে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত সবাই আইনের দৃষ্টিতে সমান হবেন। কোনো দলীয় পরিচয়, পদ-পদবি বা ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যেন অপরাধ করে পার পেয়ে যেতে না পারে, সে ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।
মন্তব্য করুন