
রাজধানীর নাগরিক জীবনের অন্যতম প্রধান অস্বস্তি ও আতঙ্কের নাম এখন ‘ছিনতাইকারী’। সামপ্রতিক সময়ে রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলোতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোরবেলা কর্মস্থলমুখী সাধারণ মানুষ, গভীর রাতে দূরপাল্লার বাস কিংবা ট্রেন থেকে নামা যাত্রী, এমনকি প্রকাশ্য দিবালোকে পথচারী- কেউই এখন নিরাপদ নন।
ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাত আর টানাহেঁচড়ায় প্রতিনিয়ত রক্ত ঝরছে নিরীহ মানুষের, ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ
ডিবি পুলিশ ও গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, ঢাকার বিভিন্ন স্পটে এখন কিশোর গ্যাং থেকে শুরু করে সংঘবদ্ধ পেশাদার ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয়। রিকশা, সিএনজি কিংবা বাসের জানালা দিয়ে মোবাইল-ব্যাগ টান দেয়া ছাড়াও নির্জন রাস্তায় পথরোধ করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়ার ঘটনা এখন প্রাত্যহিক চিত্র।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও অপরাধীদের এই বেপরোয়া মনোভাব রাজধানীবাসীকে এক চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। কেবল আইনগত ব্যবস্থা নয়, বরং আধুনিক নজরদারি এবং সামাজিক প্রতিরোধের অভাবই এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনা কেবল বাড়েনি, বরং তা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা বিভাগের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, বিগত কয়েক মাসে ঢাকার অপরাধের গ্রাফ আশঙ্কাজনকভাবে ঊর্ধ্বমুখী।
বিগত তিন মাসে (মার্চ, এপ্রিল এবং মে) ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিমতে অন্তত ৮৩টি বড় ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তবেঅপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংখ্যাটি হিমশৈলের চূড়ামাত্র। কারণ, বেশিরভাগ ঘটনাই পুলিশের নথিতে বা মামলায় রূপ নেয় না।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত মে মাসে ছিনতাইয়ের প্রকোপ দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। মে মাসে রাতের পাশাপাশি প্রকাশ্য দিবালোকে জনাকীর্ণ এলাকায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমগ্র ঢাকা মহানগরীতে তিন শতাধিক ছিনতাইয়ের স্পট রয়েছে। তবে এর মধ্যে ৫৫টি পয়েন্টকে ‘হটস্পট’ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য করুন