
গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধায় এক বিসিএস কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে একটি অনলাইন পোর্টালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আইনি প্রতিকার চেয়ে থানায় গেলেও অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী এ. কে. এম. আজাদ সরকার, গাইবান্ধা সরকারি কলেজের প্রভাষক এবং বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। তিনি অভিযোগ করেন, ‘গণউত্তরণ’ নামে একটি অনলাইন পোর্টাল তার পরিবার-সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে তার ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করা হলেও তার কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি এবং তথ্য যাচাইয়েরও চেষ্টা করা হয়নি।
ভুক্তভোগীর দাবি, সংবাদটি প্রকাশের সময় তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনকালে ঢাকায় একটি উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছিলেন। অথচ তাকে জড়িয়ে এমনভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, যা তার ব্যক্তি, পেশা ও সামাজিক মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এ. কে. এম. আজাদ সরকার বলেন, “আমি কোনো অপরাধে অভিযুক্ত নই। আমার বক্তব্য গ্রহণ না করে এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য যাচাই ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আমার সম্মান ও পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
লিখিত অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘গণউত্তরণ’ নামে একটি স্থানীয় পত্রিকার ডিক্লারেশন পূর্বেই বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এরপরও একই নাম ও লোগো ব্যবহার করে অনলাইন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি আইনগতভাবে বৈধ কি না, তা তদন্তের দাবি জানান তিনি।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনলাইন পোর্টালের নিবন্ধন, পরিচালনা কার্যক্রম, অর্থায়নের উৎস এবং তার অভিযোগ গাইবান্ধা সদর থানায় গ্রহণ না করার কারণ তদন্তেরও অনুরোধ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন