ব্রেকিং নিউজ
Agami IT
২০ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আপনি কোন প্রকারের হজ করবেন?

হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য জীবনে একবার ফরজ। হজ আদায়ের পদ্ধতির ভিত্তিতে ইসলামি শরিয়তে হজকে প্রধানত তিন প্রকারে ভাগ করা হয়েছে: হজে তামাত্তু, হজে কিরান এবং হজে ইফরাদ। প্রত্যেকটির নিজস্ব নিয়ম, বৈশিষ্ট্য এবং ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে কোন হজ আদায় করেছেন এবং সাহাবিদের কী নির্দেশ দিয়েছেন— এসব বিষয় হাদিসের আলোকে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হজের প্রকারভেদ ও উত্তম পন্থা

১. হজে তামাত্তু (حج التمتع)

এটি এমন হজ যেখানে হাজি প্রথমে ওমরাহ আদায় করে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যায়, তারপর ৮ জিলহজ পুনরায় ইহরাম বেঁধে হজ আদায় করে।

عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ نَجْعَلَهَا عُمْرَةً

হজরত জাবির (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন আমরা হজকে ওমরায় পরিণত করি (অর্থাৎ তামাত্তু করি)। (মুসলিম ১২১৮)

> এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের তামাত্তু হজ করতে উৎসাহিত করেছেন।

২. হজে কিরান (حج القِران)

এ হজে হাজি একই ইহরামে হজ ও ওমরাহ একসঙ্গে আদায় করে এবং পুরো সময় ইহরামে থাকে।

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يُلَبِّي بِهِمَا جَمِيعًا

হজরত আনাস (রা.) বলেন, আমি নবী (সা.)-কে শুনেছি— তিনি হজ ও ওমরাহ উভয়ের জন্য একসঙ্গে তালবিয়া পাঠ করতেন।’ (বুখারি ১৫৫১)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে কিরান হজ আদায় করেছেন—এ মতটি বহু আলেম সমর্থন করেন।

 

৩. হজে ইফরাদ (حج الإفراد)

এ হজে হাজি শুধু হজের নিয়ত করে, এতে ওমরাহ অন্তর্ভুক্ত থাকে না।

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَا نَرَى إِلَّا الْحَجَّ

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে বের হলাম এবং আমরা শুধু হজই নিয়ত করেছিলাম।’ (বুখারি ১৫৬২)

> এই হাদিস ইফরাদ হজের বৈধতা নির্দেশ করে।

কোন হজ উত্তম?

এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ ফকিহ মনে করেন—

তামাত্তু হজ সাধারণ মুসলমানদের জন্য উত্তম, কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কিরান হজ উত্তম হতে পারে তাদের জন্য যারা হাদী (কুরবানি) সঙ্গে নিয়ে আসে। ইফরাদ হজও বৈধ, তবে তুলনামূলক কম ফজিলতপূর্ণ বলে অনেক আলেম মত দেন।

হজের প্রতিটি প্রকারই শরিয়তসম্মত এবং সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। একজন মুসলমান তার সামর্থ্য, পরিস্থিতি ও সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা ও সাহাবিদের আমল বিবেচনায় হজে তামাত্তু অধিক সহজ ও অধিক প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণযোগ্য।

আল্লাহ আমাদের সকলকে সহিহভাবে হজ আদায়ের তাওফিক দান করুন এবং এই মহান ইবাদত কবুল করুন। আমিন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিরপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে দালালবিরোধী অভিযান,

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ১,৯০৮ মামলা

“আপনিও হতে পারেন News DBN-এর প্রতিনিধি” ‎

আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ, জবাবে যা বললেন রুমিন ফারহানা

সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সালমান শাহ হত্যা মামলার রাজসাক্ষীর বক্তব্যের পালটা জবাব দিলেন শাবনূর

প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাচ্ছেন আজ

গণ-অভ্যুত্থান ছিল ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যশোরে ব্যবসায়ী আদিত্যকে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা : তথ্য উপদেষ্টা

১০

হয় সমঝোতা, নয়তো পুরোপুরি আত্মসমর্পণ

১১

৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন

১২

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

১৩

বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে নতুন তথ্য

১৪

খুলনায় ট্রাকচাপায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

১৫

রাজশাহীতে সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলা, বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নিন্দা

১৬

ঢামেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন মির্জা আব্বাস

১৭

আগামীকাল থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক

১৮

নতুন রাষ্ট্রপতি বাছাইয়ের দায়িত্বে কারা, জানালেন রিজভী

১৯

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি

২০