
সরকারের ঋণ বৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে দেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন শেষে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়াতে পারে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন শেষে দেশের মোট বিদেশি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান বাবদ অর্থছাড় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬১ শতাংশ কমেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে বিদেশি সহায়তা ছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। বিপরীতে, আগের ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। ফলে নতুন অর্থছাড়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে।
এদিকে, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও সরকারের ঋণ বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরসহ প্রথম তিন মাসে তা প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ। পাশাপাশি, ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথাপিছু ঋণের হিসাব প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত দেনা নয়; এটি সরকারের মোট ঋণকে জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া গড় পরিমাণ। তবে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধের চাপ শেষ পর্যন্ত সরকারি বাজেটের ওপর পড়ে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার, রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপ উন্নয়ন ও জনসেবামূলক খাতের ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
লি/আ
মন্তব্য করুন