
তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপ বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির লক্ষ্যে তামাক কোম্পানিগুলো আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধরনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা বলেন, আইন লঙ্ঘনের দায়ে তামাক কোম্পানিগুলোকে শাস্তির আওতায় আনা হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
সম্প্রতি ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সভাকক্ষে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের সমন্বয় ও সম্পৃক্তকরণ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আলোচনা করেন জনস্বাস্থ্য নীতি বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের টেকনিক্যাল অফিসার আমিনুল ইসলাম সুজন, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কর্মী হামিদুল ইসলাম হিল্লোল এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান।
কর্মশালায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার সামিউল হাসান সজীব। সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া অফিসার নাজমুন নাহার নিপা।
প্রবন্ধে সামিউল হাসান সজীব বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগ্রাসীভাবে হস্তক্ষেপ করছে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (এফসিটিসি) অনুচ্ছেদ ৫.৩ অনুযায়ী তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ শনাক্ত করে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রচারণা জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সামিউল হাসান আরও বলেন, তামাক কোম্পানির কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে টাস্কফোর্স কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট ব্যবহার করছে এবং তাদের বেশিরভাগই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তামাক নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম ও সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কর্মী হামিদুল ইসলাম হিল্লোল বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে তামাকবিরোধী কার্যক্রমের সংবাদ প্রকাশ হয়ে আসছে। বর্তমানে প্রচলিত গণমাধ্যমের পাশাপাশি নিও মিডিয়া ও পডকাস্টের মতো নতুন প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হয়েছে। ফলে তামাক নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক উদ্যোগগুলো আরও ব্যাপকভাবে প্রচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট, বিষয়ভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর প্রেস রিলিজ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রমের তথ্য আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
কর্মশালায় তামাক নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও জোরদার করা এবং তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপের বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
লি/আ
মন্তব্য করুন